সময়ের সাথে রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করেই যারা গড়েছেন, নিজস্ব সম্রাজ্য

 প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ন   |   জেলার খবর

সময়ের সাথে রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করেই যারা গড়েছেন, নিজস্ব সম্রাজ্য

মীর আল-আমিন (৩৮), পিতা: গোলাম রব্বানী,সাং: জিয়ারখী ইউনিয়ন, মান্নানখালী ব্রিজ, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা। মীর আল-আমিন বর্তমানে সিঙ্গাপুরের প্রবাসী। সেখানে স্বনামধন্য রেস্টুরেন্টে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। রেস্টুরেন্টের নাম BNR Food Services Pte Ltd। সিঙ্গাপুরের একটি বড় স্থানীয় ব্যবসায়ীর সাথে পার্টনারশিপ ব্যবসা পরিচালনা করেন। আবার সেই ব্যবসায় ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। তিনি নিজের বেতন এবং রেস্টুরেন্টের টাকা প্রতিনিয়ত অসাধু উপায়ে আত্মসাৎ করে। নিজ এলাকায় থাকা আওয়ামী লীগের ঘাপটি মেরে থাকা সন্ত্রাসীদের চাঙ্গা রাখতে অর্থ দিয়ে সাহায্য করে আসেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সিঙ্গাপুর যেতে ইচ্ছুক অনেকের কাছ থেকে টাকা এবং পাসপোর্ট নিয়ে দিনের পর দিন সময় ক্ষেপন করে। ভুক্তভোগীরা টাকা এবং পাসপোর্ট ফেরত চাইলে দেশের ও বিদেশে বিভিন্ন জটিলতার কথা বলে। অসাধু আদম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্মিলিত হয়ে বারবার মেডিকেল করায় এবং বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে টাকা কেটে রাখে।


বাংলাদেশে যখন অবস্থান করতেন আওয়ামীলীগের ছত্র ছায়ায় লাহিনী বটতলা, কুষ্টিয়াতে একটি ফার্মেসিতে কর্মরত ছিলেন। তার পিতা গোলাম রব্বানী তিনি গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচার সরকারের কর্মী হিসেবে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে লিপ্ত ছিলেন। নিজ এলাকায় জোরপূর্বক জমি দখল, সুপারিশ বাণিজ্য, ঘুষের বিনিময়ে চাকরি দেওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ও তার ভাই আতাউর রহমান আতার হুকুমের গোলাম ছিলেন এই গোলাম রব্বানী। জিয়ারখী ইউনিয়ন ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর থেকে বিএনপি'র প্রভাব রয়েছে কোনদিনই আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মী বৈধ ভোটে নেতৃত্বে আসেনি। গোলাম রব্বানীর নেতৃত্বে জিয়ারখী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন ফ্যাসাদ, যুব সমাজে মাদকের আনাগোনা, ছুরি, ছিনতাই, রাহাজানি ইত্যাদি সংগঠিত হয়েছিল। জমি সংক্রান্ত পারিবারিক কলহ সৃষ্টি এবং স্বল্পমূল্যে সকল জমি ক্রয় করা বিভিন্ন সমস্যা নিজেই সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের সেই কার্যালয়ে মোটা অংকের অথ্যের বিনিময়ে মীমাংসা পরিচালিত করতেন। 


স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ বলেন, গত ১৭ বছর আমাদের গ্রামের সকলেই এই গোলাম রব্বানীর চাপে ও হানিফ ও আতার চাপে স্বৈরাচারী সরকারের পক্ষে বাধ্য হয়ে সকলকে থাকতে হয়েছে। আমরা সব সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া জাতীয়তাবাদী দল মনে প্রাণে বিএনপির সমর্থক।


ত্যাগী, স্বৈরাচারী দ্বারা নিষ্পেষিত কর্মীগণ বলেন, ০৫ ই আগস্ট এর পর এই গোলাম রব্বানী আবারও বিএনপি ছত্রছায়ায় বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করছে কোন ধরনের আইনি ব্যবস্থা তার বিরুদ্ধে কেউ গ্রহণ করেনি এটাই আমাদের সবথেকে বড় দুঃখ। এই অসাধু সুযোগ সন্ধানী গোলাম রব্বানীর রাজনৈতিক ইতিহাস কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেকে যাচাই-বাছাই এর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান। 


স্থানীয়দের বক্তব্য অনুসারে, তার পরিবারের অনেকেই বর্তমানে সিঙ্গাপুরে বসবাসরত। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন হাইব্রিড নেতা অর্থ এই গোলাম রব্বানীর কাছে আমানত হিসাবে রয়ে গিয়েছে। সেই অর্থ দিয়েই মূলত বিভিন্ন জায়গায় অনেক আবাসিক ও কৃষি জমি ক্রয় করেছেন। বর্তমানে ০৫ তলা ফাউন্ডেশন করে আলিসান বাড়ি তৈরি করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুসারে এই গোলাম রব্বানী এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি সুনির্দিষ্ট তদন্ত জরুরী। এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অতি দ্রুত খতিয়ে দেখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।


জেলার খবর এর আরও খবর: