লালমাইয়ে খাবার হোটেলে বিএনপি নেতার ওপর অতর্কিত হামলা!
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০১ অপরাহ্ন | জেলার খবর
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বিএনপি নেতা মাওলানা জাকির হোসেনের ওপর খাবার হোটেলে অতর্কিত ও নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই বাজারের ‘আলাউদ্দিন হোটেল’-এ দুর্বৃত্তরা তার ওপর এই হামলা চালায়। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার পর মুহূর্তের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও হোটেল সূত্রে জানা যায়, মাওলানা জাকির হোসেন বাগমারা বাজারে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাতে খাবার খেতে লালমাইয়ের আলাউদ্দিন হোটেলে যান। খাবার খাওয়া অবস্থায় ৮ থেকে ৯টি মোটরসাইকেলে করে মুখে মাক্স পরা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল দুর্বৃত্ত হোটেলে প্রবেশ করে। তারা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হকিস্টিক ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। হামলায় তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
হামলা চলাকালে অপরাধীরা অপপ্রচার চালানোর উদ্দেশ্যে নারীঘটিত বিষয়ে জনতা মারধর করছে বলে স্লোগান দিতে থাকে। তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিও কিংবা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে কোনো নারীর উপস্থিতি দেখা যায়নি। পরবর্তীতে খবর পেয়ে সদর দক্ষিণ ও লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশও সেখানে কোনো নারীর অস্তিত্ব পায়নি।
হোটেলের স্বত্বাধিকারী আলাউদ্দিন জানান, মাওলানা জাকির ভাই নিয়মিত আমার এখানে রাতে খাবার খান। তিনি খাবার শেষ করে উঠে যাওয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্তে ৮-৯টি মোটরসাইকেলে এসে মাস্ক পরা একদল লোক ভেতরে ঢুকে হামলা চালায়। আমি বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা আমার পায়েও আঘাত করে। কোনো মতে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি, তা না হলে হয়তো তাকে মেরেই ফেলা হতো। সাথে আনা ওনার গাড়িটিও ভাংচুর করার চেষ্টা করেছে কিন্তু আমার জন্য পারেনি। হামলার সময় তার সাথে কোনো নারী ছিলেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিন ধরে লালমাই উপজেলা খাদ্যগুদামের জায়গা নিয়ে এলাকায় বিক্ষোভ ও উত্তেজনা চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে প্রতিপক্ষ কোনো গোষ্ঠী অন্য উপজেলা থেকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত জাকির হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
