কুমিল্লায় আঁখ চুরির অপবাদে ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে নির্মম মারধর, ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল!

 প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন   |   জেলার খবর

কুমিল্লায় আঁখ চুরির অপবাদে ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে নির্মম মারধর, ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল!


লালমাই উপজেলা প্রতিনিধি:

চুরির অপবাদ দিয়ে ৭ম শ্রেণীতে পড়ুয়া সিহাব (১২) নামের এক শিশুকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শিশু নির্যাতনের এই নির্মম ঘটনার একটি ২ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে সর্বত্র তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভূলইন দক্ষিণ ইউনিয়নের পরতি গ্রামে। নির্যাতিত সিহাব ওই গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ওমর ফারুকের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত নির্যাতনকারীর নাম আবুল খায়ের, তিনি একই গ্রামের ফকির বাড়ির বাসিন্দা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টিকারী ​ভাইরাল  ২ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত আবুল খায়ের শিশু সিহাবকে চুরির অপবাদ দিয়ে নির্দয় ও বেদড়ক মারধর করছেন।

শিশুটি কান্নাকাটি ও আকুতি-মিনতি করলেও তা উপেক্ষা করে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে যান তিনি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ও সচেতন নাগরিক সমাজ অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আহত শিশুটির বাবা পল্লী চিকিৎসক ওমর ফারুক জানান, নির্যাতনের পর সিহাব শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ-সময় আবেগপ্লুত হয়ে তিনি বলেন,​"আমার ছোট ছেলেটা ব্যথায় ছটফট করছে। কোনো অপরাধ ছাড়াই চুরির অপবাদ দিয়ে এভাবে একটা শিশুকে কেউ মারতে পারে? আমি এই অমানবিক নির্যাতনের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"

ঘটনার বিষয়ে বিচার চেয়েছেন স্থানীয় ইউপি মেম্বার জহিরুল ইসলাম, তিনি বলেন, ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওয়াতায় এনে বিচারের দাবি জানাই। ​ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরে আসার পর স্থানীয় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদারকি করছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর ওপর এমন বরবর নির্যাতনের বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন।

ঘটনার বিষয়ে লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ভিডিওটি দেখার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে এবং শিশু সিহাবের বাবা থানায় এসেছে কিন্তু সামাজিক ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করবে বলে কোন প্রকার অভিযোগ না দিয়ে চলে গিয়েছে।

জেলার খবর এর আরও খবর: