১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে: শামা ওবায়েদ

 প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন   |   রাজনীতি

১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে: শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ভোট পাহারা দিতে হবে। যার যার কেন্দ্রের ভোট সেই কেন্দ্রের মানুষই পাহারা দেবেন। এক কেন্দ্রের মানুষকে অন্য কেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, প্রতিপক্ষকে কখনোই ছোট করে দেখা যাবে না। ধানের শীষের একটি ভোটও যেন নষ্ট না হয়, সেটি নিশ্চিত করা দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত কেন্দ্র ছাড়বেন না। রেজাল্ট শিট হাতে নিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হতে হবে। ২৪ ঘণ্টা ভোট পাহারা দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছরের সংগ্রাম ও নির্যাতনের পর ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দেওয়ার একটি সুযোগ এসেছে। এই ভোটের মধ্য দিয়েই জনগণ স্বাধীনভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে এবং দেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। এই দিনটিকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না।

নিজের দায়িত্ববোধের কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, গত ১৮ বছর ধরে তিনি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি একটি ভোট দিয়ে যদি জনগণ তাকে কাজ করার সুযোগ দেয়, সেটিই হবে তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে একটি সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ২০২৬ সালে মানুষ চাঁদে পৌঁছেছে, অথচ কুমার নদের ওপর এখনো একটি সেতু নেই। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সংসদে যেতে পারলে এই নদীর ওপর অবশ্যই সেতু নির্মাণ করা হবে।

তিনি বলেন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে হলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মাদককে না বলতে হবে। যারা মাদক ব্যবসা করে এবং যারা মাদক সেবন করে—উভয় পক্ষকেই সালথা থেকে নির্মূল করতে হবে। ধানের শীষের বিজয়ের মাধ্যমেই এটি সম্ভব।

নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর চাইছে। কেউ এমন কিছু চাইলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে হবে। ভোটার আইডি কার্ড নাগরিকের ব্যক্তিগত সম্পদ, এটি চাওয়ার অধিকার কারো নেই। এটি নির্বাচন ধ্বংসের একটি ষড়যন্ত্র।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির কাছে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ নিরাপদ। মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে তার বাবার অবদান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করা হবে এবং মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার দায়িত্বশীলদের জন্য সরকারি ভাতা চালু করা হবে।

যদুনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান হুমায়ুন খানের সভাপতিত্বে এবং ফরিদপুর জেলা প্রচার কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দিলীপ পোদ্দার ও যদুনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, ফরিদপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজন ফকির, যদুনন্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।


রাজনীতি এর আরও খবর: