পঞ্চগড় হাসপাতালে শয্যার দ্বিগুণ ঠান্ডাজনিত রোগী,হিমশিম খাচ্ছে সেবা দাতারা
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারী ২০২৪, ১০:৩৬ অপরাহ্ন | সারাদেশ
মোঃ লিহাজ উদ্দিন ( পঞ্চগড় ): পঞ্চগড়ে গত কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। জ্বর, সর্দি, কাঁশি, ডায়েরিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রতিদিন জেলা সদরের আধুনিক সদর হাসপাতালে রোগী ভর্তি হচ্ছে। হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। পঞ্চগড়ে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা এখন দ্বিগুণের বেশি। এ অবস্থায় রোগী চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। হাসপাতালে শয্যা কম থাকায় রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি । হাসপাতালে বর্তমান শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেশি। রোববার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মেঝে ও বারান্দায় অসুস্থ শিশুকে নিয়ে মেয়েরা বসে আছে। শয্যা সংকটের কারণে এভাবে তাদের চিকিৎসা দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কেউ কেউ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে জানা গেছে, ১০০ শয্যার বিপরীতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ৪৭ জনসহ মোট রোগীর সংখ্যা এখন দুই শতাধিক। এর মধ্যে শিশু রোগী ৬৫ জন। নতুন ৪৭ জনের মধ্যে ১৫ জনই শিশু। অথচ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা ২২টি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শীতের কারণে শিশু ও বয়স্কদের ঠান্ডাজনিত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থায় রোগীর সংখ্যা বেশি হলেও চিকিৎসায় অবহেলা হচ্ছে না। পঞ্চগড় সদর উপজেলার বোদাপাড়া গ্রামের মাজেদা বেগম দেড় বছর বয়সি মেয়ে নিয়ে হাসপাতালে আছেন । তিনি বলেন, ‘শীতের কারণে বাচ্চা ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। কোনোভাবে সুস্থ হচ্ছিল না, তাই হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখানে স্যালাইন, ঔষধ সেবনে এখন কিছুটা ভালোর দিকে।’ চাকলা হাট এলাকার মৌসুমি আক্তার বলেন, ‘দুই দিন ধরে বাচ্চা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছি। বেড পাইনি। বারান্দায় কষ্ট করে থাকতে হচ্ছে।’বাইরে থাকার কারনে কুয়াশা ও ঠান্ডায় কাহিল হতে হচ্ছে। সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের সেনপাড়ার দুলাল চন্দ্র বলেন, ‘ছোট ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। এখানে সঠিক চিকিৎসা মিললেও দুর্ভোগ চরমে, বারান্দার মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। এখানে ঠান্ডা বাতাস মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা জেলার সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের সাপিজ উদ্দিন বলেন, ঠান্ডায় আমার ডায়রিয়া হয়েছে। গরীব মানুষ গরমের কাপড় কিনতে পারি না। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে স্যালাইন দিলে কিছুটা ভালো লাগছে। হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ও কনসাল্টেন্ট ডা. মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘পঞ্চগড়ে শীতজনিত কারণে ডায়েরিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগী বেড়েছে। প্রতিদিনই বহির্বিভাগে ২০০-২৫০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে যারা বেশি অসুস্থ, তাদের হাসপাতালে ভর্তি হতে বলা হচ্ছে। তাদের সুস্থ রাখতে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। একইসঙ্গে আমরা তাদের সচেতনতামুলক পরামর্শ দিচ্ছি।’ তিনি আরো বলেন, সবাই সচেতন থাকলে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। আধুনিক সদর হাসপাতাল, পঞ্চগড়ের আরএমও ডাঃ আবুল কাশেম বলেন, পঞ্চগড়ে গতপরশু থেকে ঠান্ডা বেশি হওয়ায় শীত জনিত রোগ বাড়ছে। আমাদের ১০০শয্যার জনবল দিয়ে দুইশ থেকে তিনশ রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আউটডোরের প্রতিদিন ৫শ থেকে ৭শ রোগী সেবা নিতে আসে।

