পঞ্চগড়ে হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপছে গবাদিপশু

 প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারী ২০২৪, ১১:৫২ অপরাহ্ন   |   সারাদেশ

পঞ্চগড়ে হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপছে গবাদিপশু


মোঃ লিহাজ উদ্দিন (পঞ্চগড় ) :

টানা পাঁচদিনে সুর্য্যের মুখ তেমন চোখে পড়েনি উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে। ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসের কারণে তীব্র শীতের পাশাপাশি যেন বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। দিনভর ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকে  চারপাশ। ঘন কুয়াশার সাথে হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে।  

প্রচন্ড ঠান্ডায় কাজে বের হতে পারছেন না খেটে খাওয়া মানুষ। পঞ্চগড়ে এ হাড় কাঁপানো কনকনে শীতে বিপর্যস্ত এ জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।  

উত্তরের জনপদে মানুষের পাশাপাশি গবাদীপশু-গুলো কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ায় কাহিল হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশা ও প্রচন্ড ঠান্ডায় নাকাল হয়ে পড়েছে গবাদীপশুগুলো।

এসব গাবাদীপশু নিয়ে বিপাকে খামারিসহ কৃষকরা। প্রকৃতির এমন প্রতিকূল আবহাওয়ায় শীত জেঁকে বসেছে গবাদি পশুগুলোর ওপর। প্রতিনিয়তই নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে হাঁস, মুরগি, গরু-ছাগলসহ গবাদিপশু।  

বিভিন্ন উপজেলার পশু হাসপাতালের তথ্য মতে, প্রতিদিন গড়ে ২০-২৫ জন ভুক্তভোগী মানুষ তাদের পশুর চিকিৎসা নিতে আসছেন।

খামার মালিকদের শুকনো খাবার, গোয়ালে তাপের ব্যবস্থা রাখাসহ পশুর গায়ে চটের বস্তা জড়িয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন জেলা প্রাণীসম্পদ অফিস।  

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে শনিবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের তাপমাত্রা ছিল ১৮দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

এদিকে, বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গবাদিপশু গুলো গোয়ালঘরে বেঁধে রেখেছেন। প্রচন্ড শীতে এসব পশুগলো শুকিয়ে গেছে। শীতের কবল থেকে রক্ষা করতে পশু গুলোকে চটের বস্তা,ছেঁড়া কাথা,কম্বল জড়িয়ে দেয়া হয়েছে। হাতে গোনা কিছু মানুষ তাদের ছাগলকে মানুষের ব্যবহৃত পুরাতন কাপড় পড়িয়ে শীত থেকে  রক্ষার চেষ্টা করলেও অধিকাংশ ছাগলেরই যত্ন নিতে পারছেন না তারা। এসব কারণে পশুগুলো শীতকালীন নানা সমস্যায় ভুগছে বলে জানান খামারীসহ কৃষকরা।

বোদা পাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা নিজেরাই শীতে কাহিল। এরপরও গরুগুলোকে রাতে চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দেই। হিমেল হাওয়ার সাথে ঠান্ডা বেশী হওয়ায় গরুগুলোকে বাইরে আনা যায়নি।  

জেলার আটোয়ারী উপজেলার কিসমত রসেয়ার গৃহিনী হাফেজা বেগম,জানান, প্রচন্ড কুয়াশা আর ঠান্ডায় মুরগী মরে যাচ্ছে। ছাগল গুলোকে বাইরে রাখলে থরথর করে কাঁপে। তাই ঘরে রেখে গাছের পাতা খাওয়াচ্ছি।

জেলা সদরের ধাক্কামারা এলাকার কয়েল পাখির খামারী খয়রুল জানান, ঘন কুয়াশা আর শীত থেকে কয়েল পাখিকে বাঁচাতে খামারের চারদিকে ঘিরে রাখার পাশাপাশি ভেতরে গরম রাখতে বিদ্যুতের বাল্ব জ্বালিয়ে তাপ দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এলএসটি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা খামারি সহ কৃষকদের গবাদিপশু গুলোকে অতি ঠান্ডায় ঘরের বাইরে না রাখার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। আমরা সার্বক্ষনিক তাদের সাথে  যোগাযোগ রেখে কাজ করছি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ বাবুল হোসেন বলেন, তীব্র ঠান্ডা আবহাওয়ায় খামারি সহ কৃষকদের গবাদিপশু গুলোকে উষ্ণ রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত শীত জনিত রোগে তেমন গবাদিপশু আক্রান্ত হয়নি। আমাদের লোকজন সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।

সারাদেশ এর আরও খবর: