পঞ্চগড়ে টানা দু'দিন এককের ঘরে তাপমাত্রার পারদ
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারী ২০২৪, ০৬:০৮ অপরাহ্ন | সারাদেশ
মোঃ লিহাজ উদ্দিন (পঞ্চগড়) : হিমালয় পাহাড় বেয়ে বয়ে আসা হিমশীতল বাতাস আর বৃষ্টির মত কুয়াশায় গত দুদিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে পঞ্চগড়ে। যেটাকে
মৃদু শৈত্য প্রবাহ ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ভোর ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল বুধবার দেশের মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অধিদপ্তর এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
গতকালের চেয়ে তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দিনের মতো আজও সকাল সকাল পুর্ব আকাশে সূর্য দেখা দিয়েছে। শৈত্যপ্রবাহ সম্পর্কে আবহাওয়াবিদরা জানান, একটি বড় এলাকায় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রেকর্ড হলে সেটি হয় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা এর চেয়ে কমে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ ও ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। সে হিসেবে এ জেলায় এখন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন প্রান্তিক এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, গত দিনের মতো ঘন কুয়াশা কাটিয়ে ভোরেই রোদ ছড়িয়ে পড়েছে।কিন্তু সূর্যের উত্তাপের সাথে পাল্লা দিয়ে কনকনে শীতের তাণ্ডবে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকেই হিম বাতাস বইতে থাকে। রাত ১০টার মধ্যে তীব্র শীত আর ঠান্ডার কারণে শহর ও গ্রামের হাটবাজারগুলো ফাঁকা হতে দেখা যায়। শীতের কারণে বিপাকে পড়েছেন পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, দিনমজুর থেকে রিকশা ভ্যানচালকসহ শ্রমজীবী মানুষগুলো। এতে করে কমে গেছে তাদের দৈনন্দিন রোজগার। পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা কষ্টে দিনযাপন করছে। বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীতার্তদের শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে নিম্নআয়ের মানুষগুলো কাজে বের হতে দেখা গেছে।
জেলার সদর উপজেলার বোদা পাড়া গ্রামের
কুলছুম জানান, রোদ উঠলেও সকালে কনকনে শীতের কারণে কাজ করতে গিয়ে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। ঘরের আসবাবপত্র, বিছানাপত্র, ঘরের মেঝে পর্যন্ত স্পর্শ করলে বরফের মতো ঠান্ডা মনে হয়। ফলে আমাদের মতো নারীদের সকালে কাজ করতে খুব কষ্ট হয়।
আলু ক্ষেতে কাজ করতে আসা সমিজ জানান, দুদিন ধরেই সকালে সূর্য উঠছে। রোদও আছে কিন্তু তারপরও কনকনে শীত লাগছে। হাত-পা অবশ হয়ে আসছে। আর রাতে খুব ঠান্ডা অনুভব হচ্ছে।
সাইকেল যোগে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া দশম শ্রেনির শিক্ষার্থী তানিয়া জানান, রোদ উঠলেও প্রচণ্ড ঠান্ডা। সাইকেলের হাতল ধরে রাখা যায় না। রাতে ও ভোরে উঠে পড়ালেখা করা যায় ঠান্ডার কারণে।
শহরে সবজি নিয়ে আসা পা চালিত ভ্যানচালক কবির জানায়, ভোরে সূর্য উঠায় স্বস্তি মিললেও ঠান্ডার কারণে বের হতে ইচ্ছে করে না। তারপরেও জীবিকার তাগিদে ভ্যান নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছি। তবে ইনকাম কম। লোকজন শীতের কারণে ভ্যানে উঠতে চায় না। আমি সবজি নিয়ে শহরে আসলাম।
করতোয়া নদীতে পাথর তুলতে আসা জরিনা ও বুধারু জানান, দুই দিন পর আজ রোদ উঠেছে। কিন্তু প্রচণ্ড ঠান্ডা। ঠান্ডায় হাড় কাঁপছে। নদীতে নামতে সাহস হয় না। হাত পা অবস হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কী করবো জীবিকার তাগিদে নদীতে এসেছি।
এদিকে শীতের কারণে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে শিশু থেকে বয়স্ক মানুষ। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোতে আউটডোরে ঠান্ডাজনিত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি শীতজনিত রোগ থেকে নিরাময় থাকতে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেছেন চিকিৎসকরা।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ বলেন, আজ সকালে সূর্য দেখা গেছে। তবে গত দিন ও আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ে। আজ সকাল ৬টায় ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি, সকাল ৯টায় ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এতে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে।

