সমস্যায় জর্জরিত সুনামগঞ্জের আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার

 প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারী ২০২৩, ০১:৫৪ অপরাহ্ন   |   সারাদেশ

সমস্যায় জর্জরিত সুনামগঞ্জের আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার


শামসুল কাদির মিছবাহ::

লোকবল সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত সুনামগঞ্জের হ্যাচারিসহ আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার। ২০০৫ সালে শহরতলির মাইজবাড়ি এলাকায় প্রায় ৪ একর জায়গার উপর স্থাপিত হওয়া এই খামারটি চালু হওয়ার পর থেকেই লোকবলসংকটসহ নানা সমস্যা নিয়ে কোনমতে চালু রয়েছে। অফিস, হ্যাচারি ভবনসহ হাঁস পালনের বিভিন্ন শেডে ফাটল ধরেছে। কয়েকটি লেয়ার ও গ্রোয়ার শেডও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। অফিসের একটি গাড়ি থাকলেও সেটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে আছে। নিয়োগ করা হয়নি গাড়ির চালকসহ পর্যাপ্ত জনবল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই খামারে অনুমোদিত ৫ টি পদসহ প্রায় ১২ জন লোকবলের বিপরীতে একজন সিনিয়র সহকারি পরিচালক, একজন পোল্টি টেকনেশিয়ান ও দুইজন ডাক এটেন্ডেন্ট ডেপুটেশনেসহ ৪ জন কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া একজন পোল্ট্রি ডেভেলপমেন্ট অফিসার (পিডিএ), একজন ক্যাশিয়ার, একজন অফিস সহকারী, একজন ইলেকট্রিশিয়ান, একজন হ্যাচারি অ্যাটেনডেন্ট, দুইজন নিরাপত্তা প্রহরী, একজন গাড়ীর ড্রাইবার ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদ শূন্য রয়েছে।

এছাড়াও মাঝখানে দীর্ঘ দিন ইনকিউবেটর (ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর মেশিন) বিকল থাকার কারণে হাঁসের ডিম ও বাচ্চা উৎপাদন ব্যহত হয়েছে। দীর্ঘদিন বিকল থাকার পর মেশিনটি পুনরায় সচল করে হাঁসের ডিম ও বাচ্চা উৎপাদন শুরু হলেও লোকবল সংকটসহ নানা সমস্যার কারণে আশানুরুপ উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সুনামগঞ্জের প্রান্তিক খামারিরা।  

সূত্র আরও জানায়, এই খামারে হাঁস পালনের লক্ষ্যমাত্রা গড়ে এক হাজার থাকলেও বিগত বন্যায় অনেক হাঁস মারা যাওয়ার কারণে কিছুটা কমেছে। তাছাড়া বন্যায় খামারের অফিস ভবনসহ বিভিন্ন শেড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ফলে হাঁস পালনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যহত হচ্ছে।

আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের সিনিয়র সহকারি পরিচালক ড. আব্দুল মোমেন জানান, লোকবলের সংকট নিয়েও আমরা ম্যানেজ করে নিচ্ছি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি লোকবল সমস্যা বেশি দিন থাকবে না। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও শেডগুলোও দ্রুত মেরামত করা হবে।

তিনি আরও জানান, ইনকিউবেটর (ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর মেশিন) দীর্ঘদিন নষ্ট ছিলো। সেটি সার্ভিসিং করে পুনরায় চালু করা হয়েছে। এখন শীতের কারণে হাঁস পালনে খামারিদের আগ্রহও কিছুটা কম। আগে বুকিং দিলে ওই অনুপাতে বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। এছাড়াও প্রান্তিক খামারি যাঁরা রয়েছেন, তাঁদেরকেও হাঁসের বাচ্চা দেয়া হয়।

তবে আগামী ৬ মাসের মধ্যে সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


সারাদেশ এর আরও খবর: