এখনকার সময় অর্থনীতির, কূটনীতির

 প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ন   |   সম্পাদকীয়

এখনকার সময় অর্থনীতির, কূটনীতির

এহছান খান পাঠান:

পৃথিবীতে মুসলমান দেশের সংখ্যা সাতান্নটি। এর মধ্যে কয়েকটা আরব দেশ বাদ দিলে সারা দুনিয়ায় কেবল মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া আর তুরস্ক অর্থনীতি ধরে রেখেছে আর বাকিসবগুলোই দরিদ্র, অতিদরিদ্র কিংবা একেবারেই গরীব। আরব মুসলিম দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে তেলের উপর, সেটাও সাসটেইনেবল নয়। তেল ফুরালে অর্থনীতিও পড়ে যাবে।  মালয়েশিয়ার সাথে সিঙ্গাপুর বহুদূর চলে গেছে, ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে ভিয়েতনাম শীর্ষ দশের ঘরে পৌঁছে যাবে। আর তুরস্ক টালমাটাল। এই ভালো তো এই খারাপ। তবে এ মহূর্তে ভালো আছে। 

পৃথিবীর এক সময়কার সমৃদ্ধ দেশ মিশরের অর্থনীতি আফ্রিকার মধ্যে বাজে অবস্থানে চলে গেছে। মিশরের চাইতে উগান্ডা-রুয়ান্ডার অর্থনীতি ভালো। আবার মিশরের প্রতিবেশি ইথিওপিয়ার অর্থনীতি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে ওঠেছে। 


একটা দেশের অর্থনীতি বড়ো হয় বিনিয়োগের ফলে। কিন্তু মুসলিম দেশগুলোর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বরাবরই অস্থিতিশীল। ফলে পৃথিবীর বড়ো বিনিয়োগকারীদের কাছে মুসলিম দেশের কোন ইমেজ নেই। বেশিরভাগ মুসলিম দেশগুলোকে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে ব্যস্ত রাখে আমেরিকা। এই তত্ত্বে বলা হয় ''তোমার প্রতিবেশি তোমার শত্রু, সে তোমাকে আক্রমণ করবে, সামরিক বাজেট বাড়াও"। ইদানীং কাজটা চীনও করাচ্ছে । এই কুযুক্তি দিয়ে তারা তাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ বেচে। এই বেচাবিক্রি করেই তারা পৃথিবীতে মোড়লগিরি করে। 

বেশিরভাগ মুসলিম দেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন বাদ দিয়ে কেবল অস্ত্র আর গোলাবারুদ কেনে।  এই সামরিক সরঞ্জাম কিনতে গিয়ে পাকিস্তান, মিশর, সিরিয়া, নাইজেরিয়ার মানুষ দরিদ্রতর হচ্ছে।গত দুই দশকে সমগ্র মুসলিম দুনিয়ায় কমপক্ষে এক হাজার ধর্মীয় সহিংসতা হয়েছে। ধর্মীয় দল-উপদলের সহিংসতায় দশ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছে। এটা তিউনিসিয়া থেকে সিরিয়া, মিশর থেকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তান, মালি থেকে মোজাম্বিক, ইরান থেকে ইরাক সবখানেই ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনীতি ভালো থাকে না৷ 

পাশের প্রতিবেশি শক্তিশালী হলে করণীয় হচ্ছে অর্থনীতি মজবুত করে, সামরিক সরঞ্জাম নয়। নিচের উদাহরণগুলে খেয়াল করলেই পাবেন।

১) চীনের বিশাল অস্ত্রভান্ডার আর পারমাণবিক বোমার বিপরীতে জাপানের আছে উন্নত শিক্ষা, মানবসম্পদ, উন্নত চিকিৎসা, শিল্পকলা, প্রযুক্তি। 

২) উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক বোমার বিপরীতে কোরিয়ার অর্থনীতি মজবুত করেছে, প্রযুক্তি শক্তিশালী করেছে, জনগণের জন্য উন্নতমানের শিক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করেছে। 


৩)  সিঙ্গাপুর তার প্রতিবেশি এবং প্রতিযোগী মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া কিংবা চীনের বিরুদ্ধে কোন ধরনের উত্তেজনা না দেখিয়ে বরং  বিনিয়োগ, শিল্প, প্রযুক্তিতে নজর দিয়েছে। 

৪)  ভিয়েতনাম তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ও চরম শত্রু চীনকে পরাস্ত করতে চায় রপ্তানিতে প্রতিযোগিতা করে, শিল্পোৎপাদন বাড়িয়ে। 

(এহছান খান পাঠান, সম্পাদক দৈনিক অর্থনীতির কাগজ)

সম্পাদকীয় এর আরও খবর: