হান্নান মাসউদের লাঠি মিছিল, বিএনপি প্রার্থীর গাড়িতে হামলা
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন | জেলার খবর
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপির নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। লাঠি মিছিল, গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার ওছখালী শহরে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক এবং নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের নেতৃত্বে একটি লাঠি মিছিল বের করা হয়। এ সময় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও একই আসনের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীমের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।একই দিন তমরুদ্দি ইউনিয়নের তালতলা এলাকায় এনসিপির নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে দলের এক কর্মী আহত হয়েছেন বলে এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এনসিপির প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সাবেক এক চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির প্রার্থী তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সদস্য মো. আলাউদ্দিন রনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘হাতিয়ায় আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে এনসিপি। তারাই ফেরিতে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে এবং সন্ত্রাসীদের নিয়ে লাঠি মিছিল বের করেছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, মিছিল থেকে তাদের প্রার্থীর গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, প্রার্থীর গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কার্যালয় ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।এর আগে শুক্রবার দুপুরে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে ফেরি উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে আবদুল হান্নান মাসউদের সমর্থক ও মাহবুবুর রহমান শামীমের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে সংঘাতটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
