বিদ্যা বিকাশের সেরা পাঠকরা পেল সনদ ও পুরস্কার

 প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:০৭ অপরাহ্ন   |   ভিন্ন খবর

বিদ্যা বিকাশের সেরা পাঠকরা পেল সনদ ও পুরস্কার


কামাল হোসেন: (লালমাই, কুমিল্লা)

বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের উদ্যোগে আয়োজিত স্কুলভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী বর্ষসেরা পাঠকদের মধ্যে সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের দুটি ও পেরুল উত্তর ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ের মোট তিনজন শিক্ষার্থীকে পাঠাগারের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হয়৷  পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতিয়া জাফরিন, আলীশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রণয় বড়ু্য়া ও কেশনপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফরিন সুলতানা।

বৃহস্পতিবার সকালে স্ব স্ব বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেন বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের কো-অর্ডিনেটর সাংবাদিক কাজী ইয়াকুব আলী নিমেল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আলীশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিকাশ সিনহা, দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমি আক্তার, কেশনপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার, বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের স্বেচ্ছাসেবক আরাফাত হোসেন শাওন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ।  

শিশু শিক্ষার্থীদের বহুমুখী করতে এবং বিদ্যালয়গুলির পাঠাগারের কার্যক্রম তরান্বিত করার লক্ষ্যে লালমাই উপজেলার ৩০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই ৩০ টি স্কুল থেকে ৫টি স্কুলে সর্বাধিক বই পাঠ করা শিক্ষার্থীদের বর্ষসেরা পাঠক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। পুরস্কার হিসেবে শিক্ষার্থীরা ১ হাজার টাকা নগদ অর্থ, গল্প, কবিতা, সাহিত্যের ১০ টি বই এবং সনদপত্র লাভ করেছে। 

পুরস্কার পেয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা নিয়মিত বিদ্যা বিকাশের দেওয়া বই স্কুল থেকে বাসায় নিয়ে গিয়ে পড়তাম। অনেকগুলো বই পড়ায় তারা আমাদের পুরস্কার দিয়েছেন। বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারকে অনেক ধন্যবাদ জানাই আমাদেরকে এতগুলো বই দেওয়ার জন্য এবং পুরস্কৃত করার জন্য৷ 

বিদ্যালয়গুলির শিক্ষকরা বলেন, বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের এই মহৎ উদ্যােগকে সাধুবাদ জানাই। তারা শুধু বিনামূল্যে বই উপহার দেননি, তারা প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত মনিটরিং করেন এবং শিক্ষার্থীদের বই পড়ায় আগ্রহী করতে বিভিন্ন পাটচক্রের আয়োজন করেন। বিশেষ করে তারা বর্ষসেরা পাঠক নির্বাচিত করে পুরস্কৃত করায় বাকী শিক্ষার্থীদের বই পাঠে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের উপদেষ্টা ও লালমাই প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের এমন মহৎ উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত হতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের এই উদ্যােগ সফল হবে যদি ছাত্র শিক্ষক এবং পাঠাগার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেন৷ 

বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাইফ মিঠু বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে সরকার পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা জাগাতে আমাদের এই ছোট্ট উদ্যােগ। ইতিমধ্যে আমরা লালমাই উপজেলার ৩০ টি স্কুলে পাঠাগার স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি৷ নতুন করে আরও ১৩ টি স্কুলে আমাদের পাঠাগার স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে স্কুলগুলোতে আমাদের বই পৌঁছেছে। শিক্ষার্থীদের বই পাঠে আরও বেশি আগ্রহী করতে আমরা বর্ষসেরা পাঠকদের পুরস্কৃত করেছি। ইনশাআল্লাহ আগামীতে সকলের সহযোগিতায় আরও বৃহৎ আকারে বিদ্যা বিকাশ কাজ করবে।

ভিন্ন খবর এর আরও খবর: