‘করপোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন’ মেনে বীমাখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই গ্রাহকের আস্থা বাড়বে

 প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন   |   অর্থ ও বাণিজ্য

‘করপোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন’ মেনে  বীমাখাতে  সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই গ্রাহকের আস্থা বাড়বে


দেশের বীমাখাতে সমস্যা দীর্ঘদিনের। বড় সমস্যা গ্রাহকের আস্থা সংকট। ‘করপোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন’ মেনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই গ্রাহকের আস্থা বাড়বে। সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বীমাখাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথোরিটি (আইডিআরএ) আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ। আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারীর সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট বি এম ইউসুফ আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন এবং কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন) মো. দলিল উদ্দিন।

সেমিনারে করপোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন উপস্থাপনা করেন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (নন-লাইফ, যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ খালেদ হোসেন। নির্ধারিত আলোচনা উপস্থাপন করেন  কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (লাইফ, যুগ্ম সচিব) ড. মো. আশরাফুজ্জামান; ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন , একচ্যুয়ারি এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমির পরিচালক এস এম ইব্রাহিম হোসাইন।

করপোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন দেশের বীমা খাতে সুশাসনের অভাব দূর করবে বলে মন্তব্য করেছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী। তিনি বলেন, বীমা খাত ভালো চলছে না। এটিকে ভালোভাবে চালানোর জন্য এই গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। আইডিআরএর চেয়ারম্যান বলেন, বীমা খাতের উন্নয়ন আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। বীমা আইন ২০১০ এ অনেক কিছুই বিস্তারিত নেই। সেগুলোর জন্য বিধি-প্রবিধি প্রণয়ন করা হচ্ছে। এই গাইডলাইন করার আগে সবার মতামত নেয়া হয়েছে। বীমা কোম্পানিতে নিরপেক্ষ পরিচালকের সংখ্যার বিষয়ে তিনি বলেন, বীমা আইনে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে নিরপেক্ষ পরিচালকের সংখ্যা রয়েছে ১০ শতাংশ। আমরা চাইলেই সার্কুলার দিয়ে নিরপেক্ষ পরিচালক ২০ শতাংশ করতে পারি না। আইনের বাইরে গিয়ে আমাদের কিছু করার সুযোগ নেই। বীমা খাতে সুশাসনের অভাব আছে; আস্থার সংকট আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বীমা আইনে সুশাসন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে আইডিআরএ’র একার পক্ষে বীমা খাতকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এ জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।





বীমা খাতে প্রতারণা বা মিথ্যার আশ্রয় নেয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ। তিনি বলেন, বীমা খাত এমন একটি খাত যেখানে মানুষের আস্থা প্রয়োজন। শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ বলেন, একাউন্টিংয়ের পরিভাষায় বীমা হলো- অন গোয়িং কনসার্ন; এটি চলবেই। আর যদি চলতেই হয় তাহলে তাকে চলার আদলেই থাকতে হবে। যদি কেউ এখানে আসেন তাকে থাকতে হবে। আর যদি কেউ ব্যবসা গুটাতে চায় তাহলে তাদের এখানে না আসা উচিত। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এই সচিব বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বাড়বে। একইসাথে বাড়বে ঝুঁকি। প্রয়োজন হবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও। আর এ জন্য প্রয়োজন বীমার।তিনি বলেন, বর্তমানে ৮১টি কোম্পানি আছে, আরো বীমা কোম্পানি আসবে। এখানে ডিমান্ড (চাহিদা) আছে তাই সাপ্লাই (সরবরাহ) প্রয়োজন। তবে প্রতারণা বা মিথ্যার আশ্রয় নেয়ার সুযোগ নেই।



চাকরির নিরাপত্তা পেলে বিমা খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সিইওরা ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের (বিআইএফ) প্রেসিডেন্ট ও পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী বি এম ইউসুফ আলী। তিনি বলেন, বিমা কোম্পানির সিইওদের নেতৃত্বে কোনও টাকা চুরি হয় না। বিমা খাতে দুর্নীতি-অনিয়মের জন্য সিইওরা দায়ী নয়।  বিআইএফ’র প্রেসিডেন্ট বি এম ইউসুফ আলী বলেন, বিমা খাতে উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের জারি করা ‘করপোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এটা বাস্তবায়ন হলে বিমা খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে। তিনি  আরো বলেন, কোম্পানির এমডি বা সিইও বোর্ডের একজন কর্মচারী। একজন এমডি বা সিইও’র পক্ষে পরিচালনা পর্ষদের বাইরে গিয়ে কিছুই করার সুযোগ নেই বাংলাদেশের আইনের প্রেক্ষাপটে।  আমরা যারা ম্যানেজমেন্ট আছি, সব সময়ই চেষ্টা করি সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধি-বিধান মেনে চলার।

বিএম ইউসুফ আলী আরও বলেন, দেশের যে কয়টি বড় কোম্পানি ধ্বংস হয়ে গেছে সেগুলোর কাহিনী যদি আমরা দেখি তাহলে দেখা যায়, কারা এখানে দায়ী। এখানে সিইও’দের ভূমিকা কী ছিল। দেখা যায়, সিংহভাগ দায়-দায়িত্ব বোর্ডের। এখানে ম্যানেজমেন্টের সাথে যারা সংশ্লিষ্ট তারা শুধু পরিচালনা পর্ষদের নির্দেশনা মেনেছে। সম্প্রতি অনিয়ম-দুর্নীতির জন্য বিমা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শুধু বোর্ড ভেঙে দিলেই সমাধান হবে না, সমাধান হয়নি।  বিমা কোম্পানিগুলোর অর্থ চুরির জন্য একজন সিইও’র বিরুদ্ধেও কোনও মামলা হয়নি। কারণ, তারা জানে আসলে তারা টাকা নেয়নি; টাকা যাদের নেওয়ার তারাই নিয়েছে। সিইও’দের চাকরির নিশ্চয়তা চেয়ে তিনি বলেন, যদি আমাদের টিকে থাকার মতো ব্যবস্থা করেন তাহলে কোনও সিইও’র নেতৃত্বে বিমা কোম্পানির একটি টাকাও নষ্ট হবে না।




অর্থ ও বাণিজ্য এর আরও খবর: