অ্যাডভোকেট কাজী আব্দুর রশীদের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

 প্রকাশ: ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪১ অপরাহ্ন   |   শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী

অ্যাডভোকেট কাজী আব্দুর রশীদের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাক্ষর দাতা , তিনবারের সংসদ সদস্য ও গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক অ্যাডভোকেট কাজী আব্দুর রশীদের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।  এ উপলক্ষে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের মুনিরকান্দি গ্রামে এবং গোপালগঞ্জ শহরের উদয়ন রোডের নিজ বাসভবনে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।  এলাকার বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলও অনুষ্ঠিত হয়।

বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্ম : 

১৯৩৩ সালের ১ মার্চ মুকসুদপুরের মুনিরকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী আব্দুর রশীদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এমএ ও এলএলবি সম্পন্ন করে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে গোপালগঞ্জ বারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।  দীর্ঘ ৫২ বছরের আইনজীবী জীবনে তিনি দক্ষ ও সুনামধন্য আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।


মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক : 

কাজী আব্দুর রশীদের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ষাটের দশকে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর তিনি ছয় দফা ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পরে ভারতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও সংগঠিত করার কাজে যুক্ত হন। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ইয়ুথ ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করে তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো এবং প্রশিক্ষণ শেষে তাদের বিভিন্ন সেক্টরে প্রেরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তিনবারের সংসদ সদস্য ও সংবিধানে স্বাক্ষর দাতা : 

১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।  স্বাধীনতার পর ১৯৭৯ ও ১৯৯১ সালে গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী) আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।  সংসদ সদস্য হিসেবে বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭২ সালে গণপরিষদ সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাক্ষর করেন কাজী আব্দুর রশীদ।  তাঁর সেই স্বাক্ষর আজও জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

মানুষের পাশে ছিলেন সবসময় : 

রাজনীতির পাশাপাশি সমাজসেবায়ও ছিল তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান। মুক্তিযুদ্ধের পর প্রত্যাগত শরণার্থীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন, দুর্ভিক্ষ, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ এলাকার শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে সহযোগিতা করেছেন তিনি।

নিজ গ্রাম মুনিরকান্দিতে মায়ের নামে আমেনা খাতুন কুরআনিয়া মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। গোপালগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানেও তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে।

স্মৃতিতে আজও উজ্জ্বল: 

২০১২ সালে গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন কাজী আব্দুর রশীদ। বার্ধক্য ও শারীরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দায়িত্ব পালন করেন নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে।

২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার কল্যাণপুরের নিজ বাসভবনে ৮২ বছর বয়সে মারা যান তিনি।  পরদিন রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনারের মাধ্যমে গোপালগঞ্জে মার্কাস মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে স্ত্রী হালিমা রশীদের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, আইনজীবী, সংসদ সদস্য ও সমাজসেবক হিসেবে কাজী আব্দুর রশীদের দীর্ঘ কর্মময় জীবন আজও গোপালগঞ্জের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার। মৃত্যু তাঁকে মানুষের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিলেও তাঁর কর্ম ও অবদান তাঁকে স্মৃতিতে বাঁচিয়ে রেখেছে।  

 বড়ছেলে কাজী হারুন-অর-রশীদ মিরন  তার পিতা রুহের মাগফেরাত ও জান্নাতুল ফেরদাউস নসীবের জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থণা করেছেন।

শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী এর আরও খবর: