শিক্ষকদের জন্যই রসাতলে বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়

 প্রকাশ: ৩১ অগাস্ট ২০২৩, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন   |   সারাদেশ

শিক্ষকদের জন্যই রসাতলে বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়

ইউনিভার্সেল কামাল (লালমাই, কুমিল্লা ) :

কুমিল্লার শতবর্ষী বিদ্যাপিঠ গুলোর মধ্যে বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয় একটি অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে পড়া লেখা করে কেউ হয়েছেন ডাক্তার, কেউবা ইন্জিনিয়ার,  আবার কেউ কেউ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও রয়েছেন তাছাড়া, এই প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করে দেশ ফেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও অনেকে চাকরি, শিল্পপতি হয়েছেন। স্বাধীনতার পর আওয়ামিলীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে সাংসদ অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদার ও বিশ্ব সেরা অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল (লোটাস কামাল এমপি)  এই প্রতিষ্ঠানেরই ছাত্র। এক কথায় বাগমারার মাটি কিংবা বাগমারা স্কুলকে (উর্বর)ফলি মাটির সাথে তুলনা করেন কুমিল্লাবাসী। কেননা, এখানেই যেনো লুকিয়ে রয়েছে সুশিক্ষিত, নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতা। আর তা কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন এক ঝাঁক শিক্ষার্থী।



অতচ,গত কয়েক বছরের তুলনায় বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল সন্তোষজনক নয়। ২০২৩ সালের এস এসসি পরীক্ষা দিয়েছে ১১৫জন, তার মধ্যে পাস করেছে ৮১জন, এপ্লাস পেয়েছে ১জন লালমাই উপজেলায় ২৪টি স্কুলের ফলাফলের তুলনায় বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবস্থান ১২ তম। বিদ্যালয়টিতে একজন প্রধান শিক্ষক, একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক ১৩জন সহকারী শিক্ষক ও ৬জন খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়মিত পাঠদান করে আসছেন।


ইতিমধ্যে প্রাইভেট পড়াকে কেন্দ্র করে ১০ শ্রেণীর শিক্ষার্থী শাফায়াত মজুমদার অননকে মারধর ও অভিভাবককে গালমন্দ করার কারনে প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ছাত্রে মা ইয়াসমি সুলতানা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি সূত্রে জানা যায়, আনীত অভিযোগকৃত শিক্ষক নূরন্নবী ইতিপূর্বে আরো কয়েকবার এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন।



বিশেষ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ে প্রাইভেট বানিজ্যর সাথে জড়িত, ইংরেজি শিক্ষক নুরুন্নবী , আইসিটি শিক্ষক খলিল'র দাপটের কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে শিক্ষাঙ্গন তাছাড়া, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বিদ্যালয়টি দেখবাল করার দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন অত্র ম্যানেজিং কমিটির বিদুৎসাহী সদস্য সোলেমান মেহেদীর উপর তিনি নাকি শিক্ষকদের গ্রুপিংয়ের কারণে সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেননা তাই তিনিও বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসেননা বলে দাবি অভিভাবকদের। এছাড়াও প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে বিদ্যালয় মাঠে বহিরাগতদের আনাগোনাও বেড়েছে যার ফলে, মাদকদ্রব্য সহ অন্যান্য নেশায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়টি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।



নাম প্রকাশে অনিশ্চুক স্থানীয় একজন বলেন, সন্ধ্যার পরে বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বহিরাগতদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা কতৃপক্ষ। এছাড়াও বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকদের মাঝে গ্রুপিং স্বক্রিয়।


বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনির আহমেদ বলেন, ইতিপূর্বে বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক নূরন্নবীর আরো বিচার করেছি। এতো কিছুর পরেও তাকে থামানো যাচ্ছেনা। এবং ইতিমধ্যে প্রাইভেট পড়াকে কেন্দ্র করে একজন অভিভাককে গালমন্দ শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।



ম্যানেজিং কমিটির বিদুৎসাহী সদস্য সোলেমান মেহেদী বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি এবং তার আলোকে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে আমরা সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেবো।



উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রোকসানা আক্তার বলেন, ইংরেজি শিক্ষক নূরন্নবীকে আমি আগেও সতর্ক করেছি কিন্তু সে শুনেনি।



কুমিল্লা জেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, যেহেতু শিক্ষককের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে সেক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটি ব্যবস্থা নিবে। তাছাড়া, ব্যক্তিগত ভাবে কোন শিক্ষক স্কুল প্রাঙ্গণে প্রাইভেট পড়াতে পারেনা। যারা প্রাইভেট বানিজ্যর সাথে জড়িত প্রধান শিক্ষককে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সারাদেশ এর আরও খবর: