দিনভর ঝলমলে রোদ, টানা দুই দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ে
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারী ২০২৩, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন | সারাদেশ
মোঃ লিহাজ উদ্দিন (পঞ্চগড় ) :
টানা দুইদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬দশমিক ৯ ডিগ্রী রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। উত্তরের হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশার কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলার মানুষ জুবুথুবু হয়ে পড়েছে। খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। ঝুঁকিতে আছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রার পারদ উঠানামা করলেও সোমবার ও মঙ্গলবার তাপমাত্রার পারদ ছিল নিম্ন মুখী। সোমবার সারাদিন ঝলমলে রোদ থাকায় জন জীবনে কিছুটা উষ্ণতা ফিরেছে। মঙ্গলবার সকালে শিরশির বাতাসের সাথে ঘন কুয়াশার চাদর সুর্যকে ঢেকে রাখলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি। সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে সুর্যের মুখ দেখা যায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে উত্তাপ ও ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু দিনব্যাপী হিমেল হাওয়া অব্যাহত থাকে।
মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ আর তীব্র ঠান্ডায় নাস্তানাবুদ হয়ে পড়েছে জনজীবন। হিমেল বাতাসের সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ফোঁটার মতো কুয়াশা ঝরছে। মঙ্গলবার সকাল ৮.৩০মিনিট পর্যন্ত ঘন কুয়াশা থাকার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে জেলার বিভিন্ন সড়কে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
গত কয়েকদিনের টানা তীব্র শীতে দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার সাধারণ মানুষ। খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না কেউ। অনেকে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
শীত বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণির খেটে খাওয়া মানুষ। কনকনে শীতের কারণে কাজে যেতে পরছেন না। তবে জীবিকার তাগিদে কৃষি জমিতে, নদীতে পাথর তুলতে, আবার কাউকে চা-বাগানে কাজ করতে যেতে দেখা গেছে।
অটো রিক্সা চালক জসিম বলেন, সকালে রিক্সা নিয়ে বের হয়েছি, কিন্তু রাস্তায় যাত্রী পাওয়া যায় না।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ফুটকি বাড়ি এলাকার ফজিবর বলেন, এবার প্রচুর ঠান্ডা শুরু হয়েছে। এই ঠান্ডার মধ্যেই সকালে কাজে যেতে হচ্ছে। কাজ না করলে খাবো কি?
নারী পাথর শ্রমিক কুলছুম বলেন, কয়েক দিন ধরে ঠান্ডা বাতাস আর কুয়াশার কারণে নদীতে নেমে পাথর তুলতে কষ্ট হচ্ছে। সকালে গৃহস্থালি কাজ কর্ম শেষ করতেই হাত পা ঠান্ডায় অবস হয়ে আসে। তারপরও পেটের দায়ে ঠান্ডা পানিতে নেমে পাথর তুলতে আসি। আজ ঠান্ডা বাতাস বেশি।
সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের ভাউলা পাড়া গ্রামের আলু চাষি জয়নাল বলেন, এবার আলু ক্ষেত নিয়ে খুব দুঃশ্চিতায় আছি। যেভাবে শীত পড়ছে তাতে আলু গাছে ব্লাস্ট রোগ সহ নানা ধরনের পোকামাকড় আক্রমন করবে। ফলন ও কম হবে।
ট্রাক ডাইভার সুলতান বলেন, রাতের মত দিনের বেলায় ও গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। রাতে স্বাভাবিক গতির চেয়ে অনেক কম গতিতে গাড়ি চালাতে হয়। একারনে গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক সময় লাগে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়।
শহরের ফুটপাত ও বিপনি গুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। নতুন পুরাতন সব ধরনের দোকানে গরম কাপড় বিক্রি বেশি হচ্ছে। প্রচণ্ড ঠান্ডায় একটু খানি উষ্ণতা পেতে জেলা শহরের সেন্ট্রাল প্লাজা, সিনেমা মার্কেট সহ বাজারের ফুটপাতের দোকান গুলোতে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিড় লেগে থাকে।
অন্যদিকে, বাড়ছে শীতজনিত রোগ। জ্বর, সর্দি-কাঁশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগ নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।
গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা জাহানারা নামের এক শিশুর মা জানান, ঠান্ডার কারণে তার মেয়ের সর্দি-কাঁশি ও শ্বাসকষ্ট এজন্য তিনি তার মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ইতি মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলার সকল উপজেলায় শীতবস্ত্র হিসাবে কম্বল বিতরণ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, ব্যক্তিগত ভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে যে পরিমাণ শীতবস্ত্র বিতরণ হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করছেন অনেকে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রাসেল শাহ বলেন, গত কদিন থেকে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা উঠানামা করছে। তবে গতকাল এবং আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে তেঁতুলিয়ায়। মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
১০/১/২৩

