বাড়ি ফিরতে আইনী সহায়তা চায় সমাজচ্যুত ৯ পরিবার

 প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারী ২০২৩, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন   |   সারাদেশ

বাড়ি ফিরতে আইনী সহায়তা  চায় সমাজচ্যুত ৯ পরিবার


শামসুল কাদির মিছবাহ (সুনামগঞ্জ):

গ্রাম্য পঞ্চায়েতের রোষানলে পড়ে ১০ মাস ধরে বাড়ি ফিরতে পারছেন না সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের সমাজচ্যুত ৯ পরিবারের সদস্যরা।

রবিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১ টায় শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে বাড়ি ফেরার আকুতি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

তাঁরা জানান, দীর্ঘ ১০ মাস ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। নিজের ক্রয়কৃত জমির ভাগ না দেয়ায় গ্রাম্য মাতব্বরদের নির্যাতনের শিকার হয়ে ১০ মাস ধরে সদর উপজেলা ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

নির্যাতিত পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে আরও জানান, লোকশূন্য বাড়ি-ঘরে লুটপাট ও ভাঙ্গচুর করা হয়েছে এবং মারধরের হুমকিধামকিও দেয়া হচ্ছে।

এব্যাপারে প্রশাসনের কাছে আইনি সহায়তা চেয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশুরা দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। দীর্ঘ দিন গ্রাম ছাড়া পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফেরার আকুতি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন।

নির্যাতিত পরিবারের পক্ষে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, রামচন্দ্র তালুকদার, জয়চান, আসু চন্দ্র তালুকদার.সমিত্রা রাণী, মিতালী তালুকাদর ও চম্পা রাণী প্রমুখ।

সমাজচ্যুত রামচন্দ্র তালুকাদার মানববন্ধনে বলেন, নিজের ক্রয়কৃত জমিতে ভাগ না দেয়ায় পঞ্চায়েত কর্তৃক আমাদেরকে সমাজচ্যুত করে গ্রামছাড়া করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য সুজন হাওলাদার, গুরুদাস তালুকদার, গোপী তালুকদার, চিতু বিশ্বাস, কৃষ্ণ বিশ্বাস, নিরঞ্জন সরকার ও পান্ডব সরকারসহ একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই পঞ্চায়েতের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের লোকজন লোকশূন্য বাড়িতে লটুপাট ও ভাঙ্গচুর করেছেন। বাড়ি ফিরতে চাইলে তাঁরা মোবাইলফোনে মারধরের  হুমকি দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে থানায় মামলা করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা এখন আমাদের জীবনের নিরাপত্তাসহ লুট হওয়া সম্পদ ফেরত চাই এবং ছেলে মেয়ে নিয়ে বাড়িতে ফিরতে চাই।

প্রসঙ্গতঃ গত এক বছর আগে চানপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা ভরত চন্দ্র তালুকদারের নামে পশ্চিম চানপুর মৌজার ৪৯ নং জেএল সংক্রান্ত ১৮৪ খতিয়ানের ৮২ নং দাগের ১ একর ২ শতক জমি, একই খতিয়ানের ৩৫৯ নং দাগের ২ একর জমি, ৩৮১ নং দাগের ৭ একর ৫৩ শতক সহ মোট ১০ একর জমি রয়েছে। এই জমি তিনি অন্যের কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন। জমি কিনতে গ্রামের মাতব্বরদের আপত্তি ছিল। জমি কেনার পর মাতব্বরদের দাবির প্রেক্ষিতে একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য গ্রামবাসীকে কিছু জমি দান করেন ভরত চন্দ্র তালুকদার। জমি দানের পরও মাতব্বরদের দাবি পূরণ হয়নি। শুরু হয় ভরত চন্দ্র তালুকদার ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র। একে একে ৯ পরিববারকে করা হয় সমাজচ্যুত। এদের মধ্যে ভরত চন্দ্র তালুকদার, রাম চন্দ্র তালুকদার, লক্ষণ চন্দ্র তালুকদার, জয় চরণ তালুকদার, জয় চান তালুকদার, আশু তালুকদার, হরে কৃষ্ণ তালুকদার, পলিন্দ্র তালুকদার, বিরেন্দ্র তালুকদার। তাঁরা কৃষি কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করে আসছেন। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সহায়তা কামনা করছেন ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।


সারাদেশ এর আরও খবর: