গ্যাস সংকটে নাকাল কেরানীগঞ্জ: ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকেরা, কর্মঘণ্টা হারিয়ে তীব্র লোকসান

 প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৪ অপরাহ্ন   |   জনদুর্ভোগ

গ্যাস সংকটে নাকাল কেরানীগঞ্জ: ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকেরা, কর্মঘণ্টা হারিয়ে তীব্র লোকসান

মাহফুজার রহমান : 

রাজধানীর কোলঘেঁষা কেরানীগঞ্জে রূপান্তরকামী প্রাকৃতিক গ্যাসের (সিএনজি) চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না চাহিদামাফিক গ্যাস। এতে একদিকে যেমন চালকদের দৈনিক আয়-রোজগার ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে মূল সড়কের ওপর যানবাহনের লম্বা লাইনের কারণে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট।

​রবিবার কেরানীগঞ্জের কদমতলী, ইকুরিয়া, কন্টিনেন্টাল মোড়, হাসনাবাদ এবং আটিবাজার এলাকার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্যাসের জন্য। কোনো কোনো পাম্পে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মিলছে সামান্য গ্যাস, যা দিয়ে দুটি ট্রিপ দেওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়ছে।

​কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকার এক অটোরিকশাচালক আক্ষেপ করে বলেন, "সকাল থেকে আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ১৮০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। সারাদিন যদি পাম্পের লাইনেই কেটে যায়, তবে মহাজনের জমা দেব কীভাবে আর পরিবারকেই বা কী খাওয়াব?"

​একই চিত্র দেখা গেছে হাসনাবাদ এলাকার সিএনজি পাম্পগুলোতে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে গ্যাস না পেয়ে অনেক চালক খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। অনেক ফিলিং স্টেশন গ্যাসের তীব্র সংকট ও চাপ না থাকায় সাময়িকভাবে পাম্প বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে।

​স্টেশন মালিকরা জানান, চাহিদার তুলনায় মূল সরবরাহ অনেক কমে গেছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় গাড়ি পূর্ণ হতে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে। ফলে পাম্প চত্বর ছাড়িয়ে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের ওপর।

​এদিকে চলমান গ্যাস সংকটে গ্রাহকদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা। এক বার্তায় সংস্থাটি জানিয়েছে, এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ-এর (এলএনজির ভাসমান টার্মিনাল) কারিগরি ত্রুটি মেরামতে দেশি-বিদেশি কারিগরি দল নিরলসভাবে কাজ করছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেরামতকাজ শেষ করে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

​তবে দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে কেরানীগঞ্জের স্থানীয় গণপরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি চালকদের আর্থিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনদুর্ভোগ এর আরও খবর: