গ্রামীণ টেলিকমের এমডিসহ প্রতিষ্ঠানটির যে কাউকেই তলব করতে পারে দুদক
প্রকাশ: ২৯ অগাস্ট ২০২২, ০২:১৬ অপরাহ্ন | আইন-আদালত-অপরাধ
সম্প্রতি গ্রামীণ টেলিকমের এমডিসহ ৪ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। পরে দুদক সচিব মাহবুব হোসেন বলেছিলেন, প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানটির যে কাউকেই তলব করা হবে।
সম্প্রতি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে শ্রমিক-কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের ৪৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ পাঠায় দুদকে। গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে শ্রমিক/কর্মচারীদের মধ্যে বন্টনের জন্য সংরক্ষিত লভ্যাংশের ৫% অর্থ লোপাট, তাদের পাওনা ৩৬৪,১৭,০৯,১৪৬/- টাকা পরিশোধকালে অবৈধভাবে এডভোকেট ফি ও অন্যান্য ফি’র নামে ৬% অর্থ কর্তন, তাদের কল্যাণ তহবিলের বরাদ্দকৃত সুদসহ ৪৫,৫২,১৩,৬৪৩/- টাকা বিতরণ না করে আত্মসাতসহ উক্ত কোপানি হতে ২,৯৭৭ (দুই হাজার নয়শত সাতাত্তর) কোট টাকা মানিলন্ডারিং এর মাধ্যমে অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যাংক একাউন্টে স্থানান্তরের অভিযোগ।
জুলাই মাসের শেষ দিকে দুদক অভিযোগটির অনুসন্ধান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় দুদক গ্রামীণ টেলিকমের এমডি, আইনজীবীসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নেয়।
তলবকৃত ব্যক্তিদের তালিকা নিম্নরুপঃ
ক) নাজমুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, গ্রামীন টেলিকম।
খ) মোঃ ইউসুফ আলী, আইনজীবী, গ্রামীন টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন।
গ) জাফরুল হাসান শরিফ, আইনজীবী, গ্রামীন টেলিকম শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন।
ঘ) মোঃ মাইনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি, গ্রামীন টেলিকম শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন।
গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে দুদকে আসেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম। এর আগে আসেন আইনজীবী। প্রায় দুই ঘণ্টা পর এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন দুদক সচিব। তিনি জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাই চলছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রয়োজনে যে কাউকে ডাকা হতে পারে। একই অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্য মাইনুল ইসলামকে আগেই আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচারক নাজমুল ইসলাম এবং দুই আইনজীবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংস্থার উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। জিজ্ঞাসাবাদে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাত এবং পাচারে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ্ ইউনূসের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তাদের কাছ থেকে জানাতে চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাজমুল ইসলাম বলেন, দুদকের এই অনুসন্ধান আমার কাছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হচ্ছে না, বরং একটি ভুল বোঝাবুঝি মাত্র।
জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি অপর দুই ব্যক্তি হলেন, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী এবং অ্যাডভোকেট হাসান শরীফ। গ্রামীণ টেলিকমের এমডি নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। এ বিষয়ে নাজমুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়নের টাকা ইউনিয়েনেই আছে। আমরা এ বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য দিয়েছি। আমরা সব কাগজপত্র দিয়েছি। তারা দেখুক, কোনো টাকাই আত্মসাৎ হয়নি।
পরে দুদক সচিব মাহবুব হোসেন ব্রিফিংয়ে বলেন, গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টনের জন্য সংরক্ষিত লভ্যাংশের ৫ শতাংশ অর্থ লোপাট, তাদের পাওনা ৩৬৪ কোটি ১৭ লাখ ৯ হাজার ১৪৬ টাকা পরিশোধকালে অবৈধভাবে অ্যাডভোকেট ফি আদায়ের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

