এনসিটি ইজারা বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে আরও ১২ কর্মচারী বদলি
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন | জাতীয়
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই আরও ১২ কর্মচারীকে বদলি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) চিফ পারসোনেল অফিসারের স্বাক্ষর করা পৃথক দুটি আদেশে এ বদলি করা হয়। এনসিটির ইজারা বিরোধী কর্মসূচি শুরুর পর এ নিয়ে মোট ১৬ জন কর্মচারীকে বদলি করা হয়। সবশেষ জারি হওয়া দুই আদেশের একটিতে সাতজনকে বদলি করা হয়েছে। তারা হলেন- পরিবহন বিভাগের উচ্চ বহিঃসহকারী মোহাম্মদ শফিউদ্দিন ও রাশিদুল ইসলাম, পরিকল্পনা বিভাগের স্টেনো টাইপিস্ট মো. জহিরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ বিভাগের এসএস পেইন্টার হুমায়ুন কবির, প্রশাসন বিভাগের উচ্চমান সহকারী শাকিল রায়হান, যান্ত্রিক বিভাগের ইসিএম ড্রাইভার মানিক মিজি এবং প্রকৌশল বিভাগের মেসন মো. শামসু মিয়া।
অন্য আদেশে বদলি হওয়া পাঁচজন হলেন- পরিবহন দপ্তরের উচ্চ বহিঃসহকারী আবদুল্লাহ আল মামুন, মাতারবাড়ি উন্নয়ন প্রকল্পের স্টেনো টাইপিস্ট খন্দকার মাসুদুজ্জামান, যান্ত্রিক বিভাগের ইসিএম ড্রাইভার মো. লিয়াকত আলী ও আমিনুর রসূল বুলবুল এবং যান্ত্রিক বিভাগের খালাসি মো. রাব্বানী।
বদলিকৃত কর্মচারীদের চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইসিডিতে একই পদে পদায়ন করা হয়েছে। আদেশে তাদের সোমবার দিনের প্রথম ভাগেই নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ‘জরুরি দাপ্তরিক ও অপারেশনাল প্রয়োজনে’ এই বদলি করা হয়েছে।এর আগে শনিবারও আন্দোলনে সম্পৃক্ত চার কর্মচারীকে পানগাঁও আইসিটিতে বদলি করা হয়।এনসিটি ইস্যুতে আন্দোলনকারী বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর শ্রমিকদল নেতা হুমায়ুন কবীর বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আন্দোলন দমন করতেই একের পর এক বদলির আদেশ দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বন্দরের বর্তমান সংকটের জন্য শ্রমিকরা দায়ী নন। আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিতে এবং চাপ সৃষ্টি করতেই বদলি করা হচ্ছে। অবিলম্বে এসব বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
বন্দর পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনিবার থেকে দুই দিনের কর্মবিরতি শুরু হয়। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতির কারণে বন্দরের কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়ে। বিকাল ৪টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
