স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও কাঁচাই রয়ে গেছে কালীগঞ্জের ২ কিমি সড়ক, ১০ গ্রামের মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ

 প্রকাশ: ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ন   |   রাজধানী

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও কাঁচাই রয়ে গেছে কালীগঞ্জের ২ কিমি সড়ক, ১০ গ্রামের মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ


শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত (লালমনিরহাট) : 

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের দুহুলী বাজার থেকে কমলাবাড়ী ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও পাকা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও জলাবদ্ধতায় রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থী, কৃষক ও নিত্যযাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে কাদা ও জলাবদ্ধতা। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদা জমে থাকায় পথচারী, মোটরসাইকেল, ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অনেক সময় যানবাহন কাদায় আটকে যাওয়ায় যাতায়াতে বাড়ছে সময় ও খরচ।

এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দুহুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুহুলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের কয়েক শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষাকালে কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়ে আহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবক শিশুদের স্কুলে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরাও। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন প্রবেশ করতে না পারায় সময়মতো ফসল বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন অধিকারী বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি কাঁচাই রয়ে গেছে। জনপ্রতিনিধিদের সদিচ্ছার অভাবে আজও কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমরা দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানাচ্ছি।

আরেক বাসিন্দা নুর হাবিব বলেন, “বহু বছর ধরে রাস্তা পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছি। জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার গেলেও আশ্বাস ছাড়া কিছুই পাইনি।

এলাকাবাসীর দাবি, এটি শুধু একটি গ্রামের রাস্তা নয়; প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ পথচারী এই সড়ক ব্যবহার করেন। তাই জনদুর্ভোগ লাঘব এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, “রাস্তাটিকে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় রোড আইডির (Road ID) জন্য প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গেজেট সম্পন্ন হলে সরকারি বরাদ্দ ও উপযুক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

রাজধানী এর আরও খবর: