রোজা বিবেচনায় প্রাথমিকের ছুটির তালিকা সংশোধনের আহ্বান শিক্ষকদের
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ন | শিক্ষা
রোজা রেখে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও অংশগ্রহণের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। একই সঙ্গে চলতি বছরের ছুটির তালিকায় শুক্র ও শনিবার ছুটি গণনায় অসংগতি এবং রমজান মাসে পর্যাপ্ত ছুটি না রাখায় শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ।মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। আহ্বায়ক মো. আবুল কাসেম, মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ, খায়রুন নাহার লিপি ও মু. মাহবুবর রহমানের সই করা যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রওশন আরা পলির সই করা একটি বাৎসরিক ছুটির তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তবে দাপ্তরিকভাবে এই তালিকার সত্যতা নিয়েই সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যদি ভাইরাল হওয়া ছুটির তালিকাটি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে একাধিক অসংগতি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে, যা কর্তৃপক্ষের অনিচ্ছাকৃত ভুল বা মুদ্রণজনিত জটিলতার ফল হতে পারে। অতীত বছরগুলোতে শুক্র ও শনিবার ছুটির তালিকায় ‘শূন্য দিন’ হিসেবে গণনা করা হতো। চলতি ছুটির তালিকাতেও ২, ৬, ১৩, ২০, ২২ ও ২৩ নম্বর ক্রমিকে শুক্র ও শনিবার হওয়ায় শূন্য দিন ধরা হয়েছে।
কিন্তু একই তালিকার ৮ নম্বর ক্রমিকে ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ঘোষিত ছুটির মধ্যে দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবারকে ছুটির দিন হিসেবে গণনা করা হয়েছে। আবার ২৮ নম্বর ক্রমিকে ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোষিত ১০ দিনের ছুটির মধ্যেও শুক্র ও শনিবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ৮ নম্বর ক্রমিকে ৪ দিন এবং ২৮ নম্বর ক্রমিকে ২ দিন—মোট ৬ দিন শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন হিসেবে যুক্ত হয়েছে।সংগঠনটির দাবি, এই অসামঞ্জস্য শিক্ষক সমাজ ও সচেতন অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের বিভ্রান্তি অনভিপ্রেত এবং দ্রুত সংশোধন প্রয়োজন।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রমজান মাস মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র। এ সময় সিয়াম পালন করে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা শিক্ষকদের জন্য তা খুবই কষ্টসাধ্য। একই সঙ্গে অনেক প্রাথমিক শিক্ষার্থীও রোজা রেখে বিদ্যালয়ে আসে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য শারীরিকভাবে কঠিন হয়ে পড়ে।এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষক নারী হওয়ায় বিদ্যালয়ের কাজ শেষে বাসায় ফিরে ইফতার প্রস্তুতির চাপও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয় বলে উল্লেখ করা হয়।এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ।
