বিদ্যুৎ সেক্টরে অভিন্ন চাকরিবিধি সংস্কারে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন
প্রকাশ: ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ন | জাতীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও জনজীবনের চাকা সচল রাখতে বিদ্যুৎ খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও স্বায়ত্তশাসিত বিদ্যুৎ কোম্পানিসমূহের প্রশাসনিক কাঠামোয় চাকরিবিধির অসমতা ও অসংগতি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে এক ধরনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এই অবস্থার নিরসন এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন সংস্থাগুলোর জন্য প্রণীত 'ইউনিফাইড সার্ভিস গাইডলাইনস-২০১৬' ঢেলে সাজানোর কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। একই ধরনের কর্মপরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা অনুসরণের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট চাকরিবিধি সংশোধন ও পরিমার্জনের জন্য পুনর্গঠন করা হয়েছে এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও কমিটির বিন্যাস:
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো: সবুর হোসেনকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপসচিবকে। গত ২৩ আগস্ট (রোববার) বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ স্বাক্ষরিত এক প্রাতিষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত সর্বসমক্ষে আনা হয়। প্রয়োজনবোধে উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত (কো-অপ্ট) করার বিশেষ এখতিয়ারও দেওয়া হয়েছে কমিটিকে।
কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা হলেন:
• যুগ্মসচিব (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স অধিশাখা)
• মহাপরিচালক (পাওয়ার সেল)
• যুগ্মসচিব (উন্নয়ন-১ অধিশাখা)
• যুগ্মসচিব (পলিসি রিফর্ম অধিশাখা)
• যুগ্মসচিব (সমন্বয় অধিশাখা)
• বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) পরিচালক পর্যায়ের প্রতিনিধিগণ
• পিজিসিবি, ডিপিডিসি, ডেসকো, নেসকো, ওজোপাডিকো, নওপাজেকো, ইজিসিবি, সিপিজিসিবিএল, বিআরপিএল, এপিএসসিএল ও আরপিসিএল—এসব বিদ্যুৎ প্রস্তুতকারী ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক পর্যায়ের একজন করে প্রতিনিধি।
কমিটির কার্যপরিধি ও মূল লক্ষ্য:
পুনর্গঠিত কমিটি মূলত কোম্পানি আইন-১৯৯৪ ও প্রচলিত সংশ্লিষ্ট আইনি বিধিবিধান পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপরেখায় পর্যালোচনা করবে। ২০১৬ সালের বিধিমালার দুর্বলতা দূর করে অংশীজনদের গঠনমূলক মতামত গ্রহণের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত প্রস্তাবনা সুপারিশ করাই এর মূল কাজ। একই শিল্পপরিসরে কর্মরত কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা, পদোন্নতির সঠিক ধাপ ও বেতন কাঠামোর সামঞ্জস্য বিধানে এই ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করা হবে।
ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশা:
এই প্রশাসনিক আদেশের পরপরই সোমবার (২৪ আগস্ট) দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের মাঝে আশার আলো দেখা গেছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দাবি, অতীতে ব্যক্তিস্বার্থ বা চাটুকারিতার সুবিধার্থে বিভিন্ন সময় কোম্পানিগুলোতে বিধিমালা নিজেদের ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করা হয়েছিল। এতে দক্ষ জনবলের বিকাশ ব্যাহত হতো এবং যোগ্য ব্যক্তিরা প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতেন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর খাতভিত্তিক সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ বৈষম্য নিরসনের স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন। বিদ্যুৎ সেক্টরে দীর্ঘমেয়াদি পেশাদারি পরিবেশ নিশ্চিতে কমিটির এ পদক্ষেপকে সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।

